দুলাল আহমদঃ আজ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫: বাংলাদেশের রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘ অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটেছে। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আজ ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর ইন্তেকাল করেন; মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৮০ বছর।
লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, কিডনি জটিলতা ও শ্বাসকষ্টসহ একাধিক জটিল রোগে ভুগে তিনি গত ২৩ নভেম্বর থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং শেষ দিকে তাঁর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে।
১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্মগ্রহণকারী খালেদা জিয়া ১৯৬০ সালে তৎকালীন সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন এবং ১৯৯১–১৯৯৬ ও ২০০১–২০০৬ মেয়াদে সরকার পরিচালনা করেন। শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ক্ষমতার পালাবদল, আন্দোলন-সংগ্রাম, নির্বাচনকেন্দ্রিক সংকট এবং নানা মামলা ও বিতর্ক তাঁকে বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের একজন করে তোলে।
তাঁর মৃত্যুতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. ইউনুস, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে বিএনপি দলীয়ভাবে ৭ দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে রয়েছে কোরআন খতম, শোক বইয়ে স্বাক্ষর, দোয়া মাহফিল এবং দেশব্যাপী বিভিন্ন শোকসভা ও কর্মসূচি। তাঁর ইন্তেকালে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক শক্তিশালী, সংগ্রামী ও ঘটনাবহুল অধ্যায়ের চূড়ান্ত সমাপ্তি ঘটল।
