মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের পদধারী নেতাকর্মীদের বিএনপিতে যোগদানের ধুম পড়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) উপজেলার দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নে পৃথক দুটি নির্বাচনী সভায় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের অন্তত এক ডজন নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যোগদানকারীদের মধ্যে অনেকের বিরুদ্ধে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত বিভিন্ন অপকর্ম ও সহিংসতার অভিযোগে মামলা রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ কারাবরণ শেষে সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়েছেন, আবার কেউ গ্রেপ্তার আতঙ্কে এতদিন আত্মগোপনে ছিলেন।
সোমবার দুপুরে দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আয়োজিত এক নির্বাচনী সভায় প্রথম দফায় বড় একটি গ্রুপ বিএনপিতে যোগ দেয়। যোগদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন— দক্ষিণভাগ (দ.) ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম টেক্কা ও আব্দুস সালাম সোনামনি, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সামাদ সেবুল, ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি লাল মিয়া এবং যুবলীগ নেতা ফখরুল ইসলাম ফখই। এ সময় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান খছরু তাঁদের ফুলের মালা পরিয়ে দলে বরণ করে নেন।
একই দিন রাত ৮টার দিকে ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আরেকটি নির্বাচনী সভায় দ্বিতীয় দফায় আরও কয়েকজন নেতা বিএনপিতে যোগ দেন। তাঁরা হলেন— ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আইনুল ইসলাম, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহমান এবং বঙ্গবন্ধু তথ্যপ্রযুক্তি লীগের উপজেলা সহ-সভাপতি সেলিম আহমদ।
যোগদান অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণভাগ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ফয়জুর রহমান, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ইকবাল হোসেন, বিএনপি নেতা মজাইদ আলী ও আব্দুস সহিদ পটল প্রমুখ।
ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনামলে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা এসব নেতার হঠাৎ বিএনপিতে যোগদানের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিএনপি নেতাদের দাবি, তারা গণতন্ত্র ও দলের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মাঝে এসব নেতার অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
