সিলেটের বিয়ানীবাজারে রায়কা আক্তার রিয়া (১৭) নামে এক কিশোরীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার বাবা আবু বক্করের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন। কী কারণে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে।
স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, প্রেমের সম্পর্ক, পারিবারিক অমিল এবং সামাজিক চাপের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।
নিহত রিয়ার বাড়ি গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা দক্ষিণ ইউনিয়নের উত্তর রায়গড় এলাকায়। তবে তিনি সম্প্রতি বিয়ানীবাজার উপজেলার তিলপাড়া ইউনিয়নের ইনাম গ্রামে তার নানাবাড়িতে অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় নানাবাড়ির পুকুরঘাটে গোসল করতে গেলে হামলার শিকার হন তিনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গোসলরত অবস্থায় আবু বক্কর সেখানে গিয়ে ধারালো দা দিয়ে মেয়ের ওপর এলোপাতাড়ি কোপ দেন। এতে রিয়ার ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে পুকুরঘাটের সিঁড়িতে রক্তাক্ত মরদেহ ফেলে অভিযুক্ত সেখান থেকে পালিয়ে যান।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রিয়া গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর এলাকার শাহিন আহমদ নামে এক তরুণের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় ওই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি তার বাবা। পরিবারের আপত্তি উপেক্ষা করে প্রায় এক বছর আগে তারা বিয়ে করেন। পরে দাম্পত্য জীবনে কলহ দেখা দিলে রিয়া বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন এবং নানাবাড়িতে থাকতে শুরু করেন।
সম্প্রতি রিয়া আবারও স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করে তার কাছে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবার তাকে বাধা দেয়। এরপর পারিবারিক অশান্তি আরও তীব্র হয়। স্থানীয়দের ধারণা, বাবার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখাকে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।
এদিকে বিয়ানীবাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ছবেদ আলী জানান, এ ঘটনায় নিহত রিয়ার মা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত আবু বক্করকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দ্রষ্টব্য: হত্যার সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে যে তথ্যগুলো উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো স্থানীয়দের বক্তব্য ও প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে। ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষে নিশ্চিত হবে।
