নিচে আপনার দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে একটি পেশাদার সাংবাদিকতাসুলভ সংবাদ প্রতিবেদন দেওয়া হলো:
সংবাদ প্রতিবেদন:
সুনামগঞ্জ, ২৫ জুলাই — সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আনিসা হেলথ কেয়ার ক্লিনিকে ঢুকে এক চিকিৎসকের ওপর ছুরিকাঘাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক মো. রায়হান উদ্দিনের নেতৃত্বে কয়েকজন। আহত চিকিৎসককে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত চিকিৎসক গোলাম রব্বানী সোহাগ (৩০) জানান, মঙ্গলবার বিকাল চারটার দিকে তিনি ক্লিনিকে কর্মরত ছিলেন। ওই সময় রায়হান উদ্দিন আলট্রাসনোগ্রাম কক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি সেখানে একজন নারীর আলট্রাসনোগ্রাম করছিলেন, তখন রায়হানকে দরজার সামনে থেকে সরার জন্য অনুরোধ করলে তাদের মধ্যে তর্ক হয়। পরবর্তীতে ক্লিনিকের অন্যরা পরিস্থিতি শান্ত করেন।
কিছুক্ষণ পর রায়হান উদ্দিন আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে এসে চিকিৎসকের কক্ষে প্রবেশ করেন এবং ‘সরি’ বলতে বলেন। চিকিৎসক সরি বলতে অপারগতা প্রকাশ করলে তারা তাকে মারধর শুরু করেন। আহত চিকিৎসক মেঝেতে পড়ে গেলে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। এ সময় চিৎকারে ক্লিনিকের অন্যান্য লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করেন।
ঘটনার পর মো. রায়হান উদ্দিনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন বন্ধ পান। তবে তার ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, তার স্ত্রীকে নিয়ে ক্লিনিকে গিয়েছিলেন এবং দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর একটি ঘটনা ঘটে যেখানে তিনি আহত হয়েছেন।
ক্লিনিকের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বিকেল ৪টা ৩ মিনিটের দিকে রায়হান উদ্দিন ও আরেকজন আলট্রাসনোগ্রাম কক্ষে যাচ্ছেন, পরে রোগী ও স্বজনদের দৌড়ে বের হতে দেখা যায়।
ক্লিনিকের মালিক শামসুল আলম জুয়েল বলেন, “আমি চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম, সেখানে রায়হান ও তার সঙ্গীর ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটছিল। চিকিৎসককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। তারা আলট্রাসনোগ্রাম কক্ষে থাকা দুটি কম্পিউটারও ভাঙচুর করেছে।”
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মুনাজ্জির হোসেন বলেন, “ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। এটি ব্যক্তিগত বিষয় বলে মনে হয়। আমরা বিষয়টি কেন্দ্রকে জানিয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছি।”
সুনামগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আহত চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
