জাতীয় সংসদে মানবাধিকার কমিশন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠাসহ অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অধ্যাদেশ বাতিল করে বিল পাস হয়েছে। এসব বিলসহ মোট ৩১টি বিল পাসের প্রেক্ষিতে বিরোধী দল আপত্তি জানিয়ে ওয়াকআউট করে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান বলেন, যৌক্তিক আপত্তি সত্ত্বেও “গণবিরোধী” কিছু বিল পাস হয়েছে, যার দায় তারা নিতে চান না। এ ঘোষণা দিয়ে তিনি জোটের সংসদ সদস্যদের নিয়ে অধিবেশন ত্যাগ করেন। তবে মাগরিবের বিরতির পর তারা আবার অধিবেশনে যোগ দেন।
সরকারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বিরোধী দলের এই আচরণে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, আইন প্রণয়নে সহযোগিতা করার পর শেষ মুহূর্তে ওয়াকআউট করা অনাকাঙ্ক্ষিত।
অধিবেশনের প্রথম পর্বে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং দ্বিতীয় পর্বে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সভাপতিত্ব করেন।
মানবাধিকার কমিশন আইন পুনঃপ্রচলন
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মানবাধিকার কমিশন সংশোধনী অধ্যাদেশ বাতিল করে ২০০৯ সালের আইন পুনঃপ্রচলনের লক্ষ্যে বিল পাস হয়েছে। বিলটি উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বিরোধিতা করে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ দাবি করেন, পূর্বের কমিশন বিরোধী দল দমনে ব্যবহৃত হয়েছে এবং এটি পুনঃপ্রচলন একটি “পশ্চাদমুখী পদক্ষেপ”।
জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, মানবাধিকার কমিশনের কার্যক্রম শূন্যতা এড়াতেই পুরনো আইনটি সাময়িকভাবে পুনর্বহাল করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও পর্যালোচনা করা হবে। তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমান সরকারের সময় গুম বা ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেনি।
সুপ্রিম কোর্ট সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ বাতিল
সংসদে পৃথক দুটি বিল পাসের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠার অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। ফলে বিচারক নিয়োগ ও প্রশাসনিক কাঠামো আগের ব্যবস্থায় ফিরে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে বিরোধী সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান বলেন, এটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ।
তবে আইনমন্ত্রী বলেন, আইন প্রণয়নের এক্তিয়ার সংসদের এবং সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বিল নিয়ে মতভেদ ও রাজনৈতিক টানাপড়েন
‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)’ সংশোধনী বিল নিয়েও বিরোধী জোটের ভেতরে ভিন্নমত দেখা যায়। জামায়াতের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হলেও তাদের জোটসঙ্গী এনসিপি লিখিতভাবে আপত্তি না থাকার কথা জানায়।
এছাড়া টেলিযোগাযোগ, গ্যাস, শ্রম, স্থানীয় সরকার, ভূমি ব্যবহার, মানব পাচার প্রতিরোধসহ বিভিন্ন খাত সংশ্লিষ্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিলও একই দিনে পাস হয়।
সার্বিক প্রেক্ষাপট
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা বহু অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দেওয়া বা বাতিল করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এসব বিল আনা হয়। তবে বিরোধী দল এসব বিলের কিছু অংশকে জনস্বার্থবিরোধী দাবি করে সংসদে প্রতিবাদ ও ওয়াকআউট করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
