ক্লাস শুরু হওয়ার কথা সকাল ৯টায় থাকলেও বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত কোন ক্লাস না নিয়েই ঘুমিয়ে ও মোবাইলে গেইমস খেলে সময় কাটাতে দেখা গেছে দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের দেওয়াননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের, যার ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা আসলেও শিক্ষকদের মর্জি ছাড়া বসে না কোন ক্লাস।

সরেজমিনে, (১১মার্চ) সোমবার দেওয়াননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে দেখাযায়, সকাল ৯ ঘটিকায় বিদ্যালয়ে পাঠদান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষক কক্ষে বসে ঘুমিয়ে পড়েছেন বিদ্যালয়টির সহকারি শিক্ষক জুলেখা আক্তার ও শিমা রানী, এছাড়া ক্লাস না নিয়েই মোবাইল ফোনে ভিডিও গেইমস খেলায় ব্যস্ত ছিলেন আরেক সহকারি শিক্ষক বিমল অধিকারী। গ্রামবাসীর সাথে কথা হলে তারাও জানান ইচ্ছেমতো বিদ্যালয়ে পাঠদান করান শিক্ষকরা, এছাড়া বিদ্যালয়টি প্রাক প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের কোন ক্লাসই হয়না, নেয়া হয়না শিক্ষার্থীদের কোন উপস্থিতির স্বাক্ষর। বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে রোকেয়া বেগম নামে একজন থাকলেও তিনিও দুইদিন ধরে আছেন ছুটিতে। স্থানীয়রা জানান, এভাবে খেয়াল খুশিমতো শিক্ষার্থীদের পাঠদান করালে শিক্ষার্থীরা সুশিক্ষিত কখনোই হবে না এমন দায়হীন কাজের শাস্তি দাবি করেন তারা।

বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রের সাথে কথা হলে সে জানায়, ম্যাডাম স্যার এখনো ক্লাসে আসেন নাই, একবার এসে সবাইকে নীরব থাকার নির্দেশ দিয়ে চলে যান এরপর আর কোন ক্লাসই হয়নি।

দেওয়ান নগর গ্রামের বাসিন্দা সায়েক মিয়া বলেন, বিদ্যালয় ক্লাসরুম খুলা হয় প্রতিদিন ১০ টায় কিন্তু পাঠদান শুরু হয় ১১ টায়,আমরা সন্তানদের বিদ্যালয়ে দেই মানুষ হওয়ার জন্য কিন্তু এসব করলে শিক্ষার্থীরা আমাদের সন্তানেরা কি শিখবে।

বিদ্যালয়ে থাকা সহকারি শিক্ষক জুলেখা আক্তারকে ঘুমিয়ে থাকার কারণ জিজ্ঞেস করলে বলেন, শরীরটা ভালো নেই তাই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম যার জন্য ক্লাস নিতে পারিনি, তবে আমি প্রতিদিন ক্লাস নেই কাজে অবহেলা করি না।

সহকারি শিক্ষক বিমন অধিকারীতো দোষ দিয়েই দিলেন শিক্ষার্থীদের উপর, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা থাকলেও তিনি সেখানে কোন শিক্ষার্থীরা নেই জানিয়ে বলেন, প্রাক প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা গুজব ছড়িয়েছে যে বিদ্যালয় বন্ধ তাই আজকে শিক্ষার্থীরা আসেননি। তবে তিনি কেন মোবাইলে গেইমস খেলতে ছিলেন, সেটি জানতে চাইলে বলেন, বেশি ছাত্র ছাত্রী আসেনি তাই ফ্রি টাইমে গেইমস খেলছিলাম।

ছুটিতে থাকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম বলেন, আমি অসুস্থ থাকায় দুইদিনের ছুটিতে আছি, ডাক্তারের কাছে দৌড়াদৌড়ি করতেছি তবে আমি সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে শিক্ষকদের ফোন দিয়ে খবরাখবর নেই তারা আমাকে বলেছেন ক্লাস নিচ্ছেন কিন্তু এখন শুনতেছি তারা ঘুমে ও গেইমস খেলায় ছিলেন, যা হয়েছে সেটি খুব খারাপ হয়েছে, এটির বিষয়ে বিহীত ব্যবস্থা নিব।

দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পঞ্চানন কুমার সানা বলেন, এমন ঘটনা যদি সত্যি হয়ে তাকে তাহলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নিব, ক্লাস না নিয়ে দায়িত্ব অবহেলা করলে এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

By সুপ্রভাত সিলেট

সুপ্রভাত সিলেট (Suprobath Sylhet) একটি দৈনিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। সিলেটসহ সারাদেশের সর্বশেষ সংবাদ, স্থানীয় ঘটনা, জাতীয় খবর, রাজনীতি, শিক্ষা, অর্থনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন ও প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদ পাঠকদের কাছে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে পৌঁছে দেওয়াই এই সংবাদমাধ্যমের মূল লক্ষ্য। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা, সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকদের তথ্যসমৃদ্ধ রাখার প্রত্যয়ে কাজ করে সুপ্রভাত সিলেট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *