জৈন্তাপুর উপজেলায় গত ২৯শে মে পাহাড়ি ঢলে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যায় উপজেলার কাঁচাপাকা ঘরবাড়ি ও রাস্তা ঘাটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর পর্যায়ক্রমে দৃশ্যমান হচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে ভেঙ্গে যাওয়া সম্পূর্ণ ও আংশিক পাঁকা, আধাপাঁকা ও কাঁচা সড়ক। সেই সাথে দৃশ্যমান হয়েছে এবারের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কাঁচা ঘর বাড়ীর সংখ্যা।

জৈন্তাপুর উপজেলা প্রশাসনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী গত ২৯শে মে’র গভীর রাতে আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে উপজেলার তিনটি প্রধান নদীর পানি হঠাৎ বিপদসীমা অতিক্রম করে নদী তীরবর্তী এলাকা সহ বিভিন্ন পয়েন্টে কাঁচা ঘরবাড়িতে আঘাত করে। এতে করে উপজেলার ২ হাজার ৭ শত ২০টি পাঁকা বাড়ী ও ৯ হাজার ৩শত ৫০ টি আধাপাঁকা বাড়ী অক্ষত থাকলেও ১২ হাজার ৭শত ৪০টি কাঁচা বাড়ীর মধ্যে ২৮০টি বাড়ী সম্পূর্ণ ও ৬১৫টি বাড়ী আংশিক ক্ষতিগ্রস্হ হয়েছে। টাকার অংকে সম্পূর্ণ ভেঙ্গে যাওয়া বাড়ীর ক্ষতির পরিমান ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ীর মূল্য ১ কোটি ২৩ লক্ষ টাকা।

সেই সাথে বন্যার কারণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ১৩২ কিলোমিটার রাস্তা সম্পূর্ণ ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জৈন্তাপুর স্হানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী গত বন্যায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ৯৭ দশমিক ০৭ কিলোমিটার পাকা সড়কের মধ্যে ১১ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার রাস্তা সম্পূর্ণ ও ২০ কিলোমিটার রাস্তা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টাকার অংকে তা ক্ষতির পরিমান যথাক্রমে ৫ কোটি ৭২ লক্ষ ৫০ হাজার ও ৬ কোটি টাকা। এ ছাড়াও বন্যায় ইট সলিং দ্বারা নির্মিত ১২ দশমিক ৭১ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে ২ দশমিক ৫ কিলোমিটার সম্পূর্ণ ও ৩ দশমিক ২১ কিলোমিটার আংশিক রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টাকার অংকে যার পরিমাণ যথাক্রমে ৫০ লক্ষ ও ৩২ লক্ষ ১০ হাজার টাকা।

সেই সাথে বন্যায় উপজেলার ৩০৯ দশমিক ৫৪ কিলোমিটার কাঁচা সড়কের মধ্যে বন্যায় সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৫ কিলোমিটার ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬০ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক। টাকার অংকে ক্ষতির পরিমান যথাক্রমে ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা ও ৩ কোটি টাকা।

এ ছাড়াও জৈন্তাপুর স্হানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী উপজেলার ৯৬টি ব্রীজের মধ্যে ১টি ব্রীজ সম্পূর্ণ ও ৬টি ব্রীজ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টাকার অংকে ক্ষতির পরিমান যথাক্রমে ২৮ লাখ ৬২ হাজার ও ৩৬ লক্ষ টাকা। এ ছাড়াও বন্যায় উপজেলার ১২২ টি কালভার্টের মধ্যে ২৪টি কালভার্ট আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যার টাকার অংকে ক্ষতির পরিমান ৬০ লক্ষ টাকা।

এদিকে বন্যায় বসতবাড়ী ও রাস্তা ঘাটের ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে সালিক রুমাইয়া। তিনি জানান স্হানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী রাস্তাঘাট, ব্রীজ কালভার্ট ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্হ বাড়ীঘরের তালিকা করা হয়েছে। বন্যায় কোন প্রাণহানির মত ঘটনা ঘটেনি। তিনি বলেন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্হের তালিকা জেলা প্রশাসক সিলেটের মাধ্যমে দূর্যোগ ব্যাবস্হাপনা মহাপরিচালক বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

By সুপ্রভাত সিলেট

সুপ্রভাত সিলেট (Suprobath Sylhet) একটি দৈনিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। সিলেটসহ সারাদেশের সর্বশেষ সংবাদ, স্থানীয় ঘটনা, জাতীয় খবর, রাজনীতি, শিক্ষা, অর্থনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন ও প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদ পাঠকদের কাছে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে পৌঁছে দেওয়াই এই সংবাদমাধ্যমের মূল লক্ষ্য। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা, সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকদের তথ্যসমৃদ্ধ রাখার প্রত্যয়ে কাজ করে সুপ্রভাত সিলেট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *