শায়েখ শাহ ওয়ালী উল্লাহ

আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী (র.) এর ছেলে শামীম বিন সাঈদী বলেছেন, আমার বাবার স্বপ্নম ছিল বাংলাদেশে কুরআনের রাজ কায়েম করা। শুধুমাত্র এই কারণেই ফ্যাসিস্ট সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কুরআনের পাখি আল্লামা সাঈদী (র.) এর উপর সীমাহীন জুলুম নিপীড়ন চালিয়েছে। সকল জুলুম উপেক্ষা করে তিনি দ্বীনের ব্যাপারে ছিলেন আপোষহীন। তাই ভারতের প্রেসক্রিপশনে হাসপাতালে আল্লামা সাঈদীকে বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে। ২০০০ ছাত্র-জনতার জীবন ও ৪০ হাজারের বেশী ছাত্র-জনতা রক্তের বিনিময়ে দীর্ঘ এক যুগ পর কুরআনের পাখির স্মৃতি বিজড়িত মাহফিলে উপস্থিত থাকতে পারায় আমি কৃতজ্ঞ।

তিনি শুক্রবার সন্ধ্যায় সিলেট এমসি কলেজে মাঠে আনজুমানে খেদমতে কুরআন সিলেট আয়োজিত ৩দিনব্যাপী তাফসীরুল কুরআন মাহফিলের ২য় দিনে আলোচনা পেশকালে উপরোক্ত কথা বলেন।

শামীম সাঈদী আরো বলেন, কুরআনের কথা বলার কারণে আদর্শিক মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়ে বিচারের নামে প্রহসন চালিয়ে ফরমায়েসী রায়ে আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদন্ডের সাজা দেয়া হয়। এর প্রতিবাদে গোটা দেশের মানুষ ফুসে উঠে। আমার সিলেটের ভাইয়েরাও সেই আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন। আমরা সিলেটের তৌহিদী জনতার কাছে ঋণী। ফ্যাসিস্ট সরকার যখন বুঝেছিল যে আল্লামা সাঈদীকে ফাসি দিয়ে হত্যা করা যাবেনা। তখন আমৃত্যু কারাদন্ডের ফরমায়েসী সাজা দিয়ে কারাগারে আটকে রাখে। এতেও পতিত ইসলাম বিদ্বেষী সরকার ক্ষান্ত হয়নি। একটা সময় যখন স্বৈরাচারী সরকার বুঝতে পেরেছিল তারা কোনভাবেই ক্ষমতায় থাকতে পারবেনা। ঠিক তখনই ভারতের প্রেসক্রিপশনে আল্লামা সাঈদীকে হাসপাতালে নিয়ে বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে। আল্লামা সাঈদীর শেষ স্বপ্ন কুরআনের রাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা এর প্রতিশোধ নেবো। আগামীর বাংলাদেশ হবে ইসলামের, সমাজ হবে কুরআনের।

বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা ও হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লীর উপস্থিতির মধ্য দিয়ে সিলেট এমসি কলেজ মাঠে আনজুমানের ৩ দিনব্যাপী তাফসীরুল কুরআন মাহফিলের ২য় দিন সম্পন্ন হয়েছে। বিকেল ৩টা থেকে শুরু হওয়া মাহফিল চলে রাত ১০ টা পর্যন্ত। মাহফিলের ২য় দিনের পৃথক অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন যথাক্রমে সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক জালালাবাদ সম্পাদক মুকতাবিস-উন-নূর এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ফজলুর রহমান।

অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সালাম মাদানী, মুফতী আলী হায়দার, মাওলানা মাশুক আহমদ, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ও মাওলানা সাইফুল ইসলামের যৌথ উপস্থাপনায় মাহফিলে আরো আলোচনা পেশ করেন শায়েখ শাহ ওয়ালী উল্লাহ, মাওলানা সাদিকুর রহমান আজহারী, শায়খ সাঈদ বিন নুরুজ্জামান আল মাদানী, হাফিজ মিফতাহুদ্দীন, ক্বারী মাওলানা মতিউর রহমান ও মাওলানা সাদিক সিকান্দর প্রমূখ।

শামীম বিন সাঈদী

মাহফিলে ২য় দিনের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন আনজুমানের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জাহেদুর রহমান চৌধুরী। বক্তব্য রাখেন আনজুমানের নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. নূরুল ইসলাম বাবুল। ক্বেরাত পাঠ করেন ক্বারী আবুল হাসনাত বেলাল ও ক্বারী আবু জাফর। মাহফিল চলাকালে হামদ-নাত পরিবেশন করেন দিশারী শিল্পী গোষ্ঠী, আল ফালাহ সাংস্কৃতিক সংসদ, তারান্নম শিল্পীগোষ্ঠী ও সুরমা সাংস্কৃতিক সংসদের শিল্পীবৃন্দ।

মাহফিলে আলোচনা পেশকালে ইসলামী চিন্তাবিদ শায়েখ শাহ ওয়ালী উল্লাহ বলেন, ইসলাম নিছক সাধারণ একটা ধর্ম নয়। কারণ দুনিয়ায় অনেক ধর্ম রয়েছে। ইসলাম হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। তাই দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শামিল হওয়া প্রত্যেক মুসলমানের মৌলিক দায়িত্ব। দেহ থাকলেই মানুষ হওয়া যায়না, প্রাণ থাকতে হয়। কুরআন আমাদের প্রাণের স্পন্দন। তাই কুরআনকে জীবন বিধান হিসেবে মেনে নেয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। নিজেদেরকে মুত্তাকি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিশ^ব্যাপী ইসলামের শত্রুরা একত্রিত হলেও ইসলামপন্থীরা দ্বিধা-বিভক্ত। ফলে মুসলমানরা মার খাচ্ছে। মুসলিম উম্মাহকে এক হতে হবে।

তিনি আরো বলেন, ১২ বছর পর আল্লামা সাঈদী (র.) স্মৃতি বিজড়িত এই মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অথচ আমাদের কুরআনের পাখি আজ নেই। তবে কুরআনের পাখিকে যারা শহীদ করেছে ওলী-আউলিয়ার এই ভুমি তাদের ক্ষমা করেনি, বরং ইতিহাসের শিক্ষা দিয়েছে। লক্ষণ সেন ও গৌড়গোবিন্দের মতো তাদের উত্তরসুরীরাও দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। গৌড়গোবিন্দ-লক্ষণ সেন যেমন ফিরে আসতে পারেনি, তাদের উত্তরসুরীরাও এই দেশে আর ফিরতে পারেনা। এজন্য কুরআনের আলোয় সমাজকে আলোকিত করে দেশপ্রেমিক জনতার ঐক্যকে অটুট রাখতে হবে।

এর আগে ৩ দিনব্যাপী মাহফিলের ১ম দিন বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারী) তাফসীর পেশ করেন আন্তর্জাতিক ইসলামিক স্কলার মাওলানা আব্দুল্লাহ আল আমীন, মাওলানা কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারী, প্রিন্সিপাল মাওলানা হাফিজুর রহমান, মাওলানা কমর উদ্দিন, মাওলানা আব্দুস সাত্তার, মাওলানা আব্দুল হাই জিহাদী, শায়খ আব্দুল হক, ড. মাওলানা এএইচএম সোলাইমান ও মাওলানা মাশুক আহমদ।

আজ (১১ জানুয়ারী) শনিবার সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মহিলাদের জন্য বিশেষ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া বিকেল ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। শেষ দিনে তাফসীর পেশ করবেন বিশ্ব বরণ্য আলেম ড. মিজানুর রহমান আজহারী, আল্লামা ইসহাক আল মাদানী, অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানী, মুফতী মাওলানা আমীর হামজা, শায়খ হাফিজ মাওলানা আবু সাঈদ ও অধ্যক্ষ মাওলানা লুৎফুর রহমান হুমায়দী প্রমূখ।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

By সুপ্রভাত সিলেট

সুপ্রভাত সিলেট (Suprobath Sylhet) একটি দৈনিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। সিলেটসহ সারাদেশের সর্বশেষ সংবাদ, স্থানীয় ঘটনা, জাতীয় খবর, রাজনীতি, শিক্ষা, অর্থনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন ও প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদ পাঠকদের কাছে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে পৌঁছে দেওয়াই এই সংবাদমাধ্যমের মূল লক্ষ্য। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা, সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকদের তথ্যসমৃদ্ধ রাখার প্রত্যয়ে কাজ করে সুপ্রভাত সিলেট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *