সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার উত্তর রনিখাই ইউনিয়নের উৎমা নদী পাড়ে গড়ে ওঠা উৎমা পর্যটনকেন্দ্র আজকাল মাদকসেবীদের আড্ডাস্থল হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে সীমান্ত সংলগ্ন অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে এখানে এক সক্রিয় মাদকবাজার গড়ে উঠেছে, যেখানে বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোররা ব্যবহার করা হচ্ছে মাদক বিক্রির জন্য।
সরেজমিনে দেখা যায়, ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোররা নদীর তীর ও আশপাশের দোকানপট্টিতে ঘোরাফেরা করছে। পর্যটকদের কাছে গিয়ে তারা সরাসরি মাদক সেবনের প্রস্তাব দিচ্ছে এবং রাজি হলে তাদের নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে মাদক সরবরাহ করছে।
এক দোকান মালিক জানায়,
“এখানে মদ ও ফেনসিডিল সহজলভ্য। কিছু লোক হেঁটে হেঁটে মাদক বিক্রি করে, আর পর্যটকরাও অনেক সময় নিজেরাই খুঁজে বেড়ায়।”
১৩ বছর বয়সী এক কিশোর মাদক বিক্রেতা জানায়,
“আগে এখানে এত মানুষ আসত না। এখন প্রতিদিন অনেক ভিড় হয়, বিশেষ করে শুক্রবার ও শনিবার। আমরা ছোটরা একটা গ্রুপ, বড়দের কয়েকটি গ্রুপ আছে।”
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
উৎমা বিওপি ক্যাম্প কমান্ডার স্বীকার করেন,
“পর্যটন এলাকায় মাদক বিক্রির বিষয়টি আমাদের অজানা ছিল। এখন থেকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং টহল আরও বাড়ানো হবে।”
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি উজায়ের আল মাহমুদ আদনান বলেন,
“পর্যটকদের টার্গেট করে মাদক বিক্রির বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে, যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের উদ্বেগ
স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় মাদক ব্যবসা চলছে, কিন্তু প্রশাসনের অনীহা ও নজরদারির অভাবে তা দিন দিন বেড়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। তারা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে উৎমা পর্যটনকেন্দ্রের সম্ভাবনা ও সৌন্দর্য হারানোর আশঙ্কা করছেন।
