নিজস্ব প্রতিবেদক :
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় স্কুল ছাত্রীকে (১৫) যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই স্কুল ছাত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে ছাত্রলীগ কর্মীদের হামলার শিকার হয়েছেন তরুণ ব্যবসায়ী মো: মাসুম আহমদ (৩০)। ব্যবসায়ী মাসুম আহমদ বড়লেখা উপজেলার চান্দগ্রামের হেলাল আহমদের ছেলে। গতকাল ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ দুপুরের দিকে চান্দগ্রাম বাজার এলাকায় এ ঘটনাট ঘটে।
স্কুল ছাত্রীকে যৌন হয়রানির হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে হামলার শিকার তরুণ ব্যবসায়ী মো: মাসুম আহমদকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে বিয়ানীবাজার আলফা ক্লিনিকে নিয়ে ভর্তি করেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ ইং তারিখে দুপুর আনুমানিক ১২টা থেকে ১টার মধ্যে মোঃ মাসুম আহমদ তার নিজস্ব মোটরসাইকেলযোগে চান্দগ্রাম বাজারের পাশ দিয়ে তার ইটভাটার দিকে যাচ্ছিলেন। ওই সময় স্থানীয় চান্দগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে ১০-১২ জন ছাত্রলীগ কর্মী একজন স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে বাজে কথা ও অশালীন আচরণের মাধ্যমে যৌন হয়রানি করছিল। ঘটনা দেখে মোঃ মাসুম আহমদ তার বাইক থামিয়ে ভদ্রভাবে ছাত্রলীগ কর্মীদেরকে বিষয়টি বন্ধ করতে এবং মেয়েটিকে ছেড়ে দিতে বলেন। এতে ছাত্রলীগ কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং মাসুম আহমদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা দেশীয় অস্ত্র, লাঠি, রড এবং বাঁশ দিয়ে মাসুম আহমদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় মোঃ মাসুম আহমদের মুখ, মাথা, বুক ও গলায় গুরুতর আঘাত লাগে। তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তার ওপর পড়ে যান এবং একপর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তখন হামলাকারীরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। হামলাকারীরা চলে গেলে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করেন এবং নিকটবর্তী বিয়ানীবাজার আলফা ক্লিনিকে নিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও মাসুমকে উদ্ধারকারী ব্যবসায়ী সাব্বির আহমদ বলেন, স্কুলছাত্রীকে রক্ষা করতে গিয়ে মাসুম ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়েছেন। আমরা দৌড়ি ঘটনাস্থলে গিয়ে অজ্ঞান অবস্থায় মাসুমকে উদ্ধার করি। যথাসময়ে উদ্ধার করতে না পারলে তিনি মারা যেতেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বড়লেখা থানার ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ সন্ধ্যায় বলেন, স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানি থেকে রক্ষা করতে গিয়ে এক যুবক হামলার শিকার হয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি।
