এএফসি নারী এশিয়ান কাপে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। টানা দুই ম্যাচে হেরে গেলেও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তবে এখনো শেষ হয়ে যায়নি স্বপ্ন। গ্রুপ পর্বে তৃতীয় স্থান অর্জন করতে পারলে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের সামনে।
চীন ও উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচেই পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ। শক্তির বিচারে এশিয়ার শীর্ষ দল হওয়ায় তাদের বিপক্ষে লড়াইটা কঠিনই ছিল। এবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান, যাদের বিপক্ষে কিছুটা আশা দেখছেন কোচ ও খেলোয়াড়রা।
টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত জয় পায়নি উজবেকিস্তানও। তবে পরিসংখ্যান বলছে শক্তির বিচারে এগিয়ে মধ্য এশিয়ার দলটি। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে উজবেকিস্তান রয়েছে ৫২ নম্বরে, আর বাংলাদেশ রয়েছে ১১২ নম্বরে। তবুও ভালো পারফরম্যান্স দেখাতে পারলে নতুন ইতিহাস গড়ার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের সামনে।
পার্থের রেক্ট্যাঙ্গুলার স্টেডিয়ামে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের কোচ পিটার বাটলার বলেন, ফলাফলের চেয়ে তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ দল কীভাবে খেলছে। তিনি চান খেলোয়াড়রা ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামুক এবং অপ্রয়োজনীয় ভুল কম করুক।
বাটলার বলেন, দল যেভাবে খেলতে চেষ্টা করছে তা নিয়ে ইতিবাচক থাকতে হবে। খেলোয়াড়রা নতুন কিছু করার চেষ্টা করবে, তবে সেটি যেন দলীয় পরিকল্পনার মধ্যেই থাকে।
তিনি আরও বলেন, মাঠে অযথা ঝুঁকি না নিয়ে বাস্তববাদী ফুটবল খেলতে হবে। হার বা জিতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো খেলোয়াড়দের প্রচেষ্টা, পরিশ্রম এবং চাপ সামলে নেওয়ার মানসিকতা।
চীনের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলে হারে। দ্বিতীয় ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে দল কিছুটা ছন্দ হারিয়ে ৫-০ গোলে পরাজিত হয়। তবুও বড় এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন কোচ।
বাটলারের বিশ্বাস, এই টুর্নামেন্ট থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নারী ফুটবলের জন্য বড় সম্পদ হয়ে উঠবে। খেলোয়াড়রা এখানে যে পেশাদারিত্ব ও শিক্ষা অর্জন করছে, তা দেশে ফিরে কাজে লাগাতে পারলে দল আরও এগিয়ে যাবে।
এখন সব নজর উজবেকিস্তানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে। এই ম্যাচেই নির্ধারিত হবে এশিয়ান কাপে বাংলাদেশ নারী দলের যাত্রা কতদূর এগোবে।
