সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরশহরের ইসহাকপুর এলাকায় অবস্থিত আল জান্নাত ইসলামিক এডুকেশন ইনস্টিটিউট কামিল মাদ্রাসার এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক সামসুল হুদাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনার পর মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অভিযুক্ত সামসুল হুদা কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার বড়বাম গ্রামের মাওলানা আলী নওয়াবের ছেলে। তিনি মাদ্রাসাটির আরবি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
জানা গেছে, রোববার (৩ মে) উপবৃত্তির ফরম পূরণের কথা বলে আলিম প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীকে ডেকে নেন সামসুল হুদা। পরে মিলনায়তনে জনশূন্য পরিবেশের সুযোগ নিয়ে তিনি ওই ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগী ছাত্রী কোনোভাবে সেখান থেকে বেরিয়ে বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের ঘটনাটি জানায়। এরপর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে সন্ধ্যার দিকে উত্তেজিত স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে গণধোলাই দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সামসুল হুদার বিরুদ্ধে এর আগেও নৈতিক স্খলনের অভিযোগ উঠেছিল। ২০১৫ সালে মাদ্রাসায় যোগদানের পর মোবাইল ফোনে আপত্তিকর কর্মকাণ্ডের অভিযোগে থানায় অভিযোগ দায়ের হলে তাকে একবার বরখাস্ত করা হয়। পরে ২০১৮ সালে গভর্নিং বডির হস্তক্ষেপে তিনি পুনর্বহাল হন।
মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. শহিদুল ইসলাম নিজামী বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি অধিকতর তদন্ত শেষে স্থায়ী বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
জগন্নাথপুর উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার অরুপ কুমার রায় বলেন, মাদ্রাসা সুপার সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বরখাস্তসংক্রান্ত দাপ্তরিক নথি হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
