বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নোট অব ডিসেন্টসহ জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে একটি সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই কমিটি গঠনের চূড়ান্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ বিষয়ে দীর্ঘ প্রায় দুই ঘণ্টার আলোচনা শেষে এ সিদ্ধান্ত আসে।
আলোচনার একপর্যায়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে সর্বদলীয় অংশগ্রহণে একটি সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান নীতিগতভাবে এ প্রস্তাবে সম্মতি জানান।
তবে কমিটির সদস্যসংখ্যা নিয়ে সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান কমিটিতে সরকার ও বিরোধীদলের সমান (৫০-৫০) প্রতিনিধিত্বের দাবি জানান। তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে কমিটি গঠিত হলে বিরোধীদলের মতামত গুরুত্ব পাবে না এবং কার্যকর সমাধান আসবে না।
এই দাবির জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার বাস্তবতা উপেক্ষা করে সমান প্রতিনিধিত্ব দেওয়া যুক্তিসঙ্গত নয়। তিনি যুক্তি দেন, অধিকসংখ্যক সংসদ সদস্য থাকা পক্ষকে কম প্রতিনিধিত্ব দিয়ে সমান ভাগ দেওয়া বৈষম্যের সৃষ্টি করবে।
এ অবস্থায় আইনমন্ত্রী স্পিকারকে দ্রুত একটি কার্যকর কমিটি গঠনের আহ্বান জানান, যাতে বিস্তারিত পর্যালোচনার মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে দেশের জন্য উপযোগী সংবিধান সংশোধনী আনা যায়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকার ও বিরোধীদল একসঙ্গে আলোচনা করে সমঝোতার ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক সংবিধান সংশোধন করতে চায়। এই কমিটির মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সংশোধনী বিল সংসদে উত্থাপন ও পাস করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান গঠনমূলক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, তারা দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে কাজ করতে চান। প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা ও জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনীয় বিরোধিতা অব্যাহত রাখবেন।
তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠতার অহংকার পরিহার করে সমতাভিত্তিক সমাধানের জন্য স্পিকার ও সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।
