সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে সোমবারও বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। সকাল থেকে বিভিন্ন ব্যানারে জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও বন্দরবাজার কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।
রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মো. সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়। গত বছরের আগস্টে তিনি সিলেটের জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় ১০ মাসের মাথায় তার এই প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সোমবারের বিক্ষোভে ‘সিলেটের সচেতন নাগরিক সমাজ’, ‘সিলেটের যুব সমাজ’ এবং ‘সিলেটের সচেতন তরুণ’-এর মতো বিভিন্ন ব্যানারে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সাধারণ নাগরিকদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। বিক্ষোভকারীরা “ডিসি সারওয়ারের প্রত্যাহার মানি না, মানবো না” এবং “সিলেটবাসীর দরকার, ডিসি সারওয়ার”সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বক্তারা দাবি করেন, সারওয়ার আলম সিলেটে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন। তাদের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের চাপে তাকে বদলি করা হয়েছে।
সকালে কার্যালয়ে প্রবেশের সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে করমর্দন করেন সারওয়ার আলম। পরে স্লোগানের মধ্য দিয়ে তাকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। দুপুরে তিনি নিজ কার্যালয় থেকে বের হয়ে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার মসজিদে যোহরের নামাজ আদায় করেন।
এদিকে, সিলেটে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন কারণে আলোচনায় ছিলেন সারওয়ার আলম। সম্প্রতি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজারে প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এছাড়া একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে উঠেছে।
জানা যায়, ১২ জুন তিনি দুই মাজার পরিদর্শন করে আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন। এর অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার মাজারের বিদ্যমান দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে বহু বছরের ঐতিহ্যবাহী তিনটি দানের ডেগও সিলগালা করা হয়।
অন্যদিকে, মাজারে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে ৬৭ জন বিশিষ্ট নাগরিক এক যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। রোববার বিকেলে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে তারা মাজারে গৃহীত প্রশাসনিক পদক্ষেপকে ঐতিহ্য ও মাজার সংস্কৃতিবিরোধী আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, শত শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এই দরগাহে স্বাধীন বাংলাদেশে এ ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপের নজির নেই। এতে জনমনে উদ্বেগ ও আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রশ্ন উঠেছে, কোনো বিশেষ মহলের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউদ্দিন আহমেদ, প্রবীণ আইনজীবী তবারক হোসেন, সিলেট পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান বাবরুল হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত এআইজি সৈয়দ বজলুল করিম এবং প্রবীণ রাজনীতিবিদ বেদানন্দ ভট্টাচার্যসহ আরও অনেকে।
