ঢাকা মহানগর ২৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সুমন দীর্ঘ ১১ বছর ধরে নিখোঁজ। ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে তুলে নেওয়ার পর থেকেই তার খোঁজ মেলেনি। ভাইকে ফিরে পেতে ‘মায়ের ডাক’ নামে গঠিত একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে নিয়মিত আন্দোলন করে আসছেন তার বোন সানজিদা ইসলাম তুলি।
কিন্তু ৮ মে (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় তেজগাঁও থানা পুলিশের একটি দল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে হাজির হয় নিখোঁজ সুমনের বাসায়। ঘটনাটি সুমনের পরিবারের জন্য ছিল অত্যন্ত বিস্ময়কর ও বেদনাদায়ক। সানজিদা তুলি বলেন, “আমি বিশ্বাস করতে পারছি না—এত বছর পর, যখন আমরা এখনো জানি না আমার ভাই বেঁচে আছেন কি না, তখন পুলিশ এসে তার নামে শেখ হাসিনার আমলে দায়ের করা মামলার ওয়ারেন্ট তামিল করতে এসেছে। এ যেন নিখোঁজ একজন মানুষকে আবারও গ্রেপ্তার করতে আসা।”
তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোবারক হোসেন বলেন, “ওয়ারেন্ট তামিলের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই একজন অফিসার সুমনের বাসায় গিয়েছিলেন। তিনি নতুন হওয়ায় সুমনের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানতেন না। বিষয়টি জানার পর আমি ব্যক্তিগতভাবে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে দুঃখ প্রকাশ করেছি এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনায় যাতে সচেতনতা থাকে, সে নির্দেশনাও দিয়েছি।”
জানা গেছে, ওইদিন তেজগাঁও থানা পুলিশ সুমনের নামে থাকা তিনটি ওয়ারেন্ট নিয়ে তার বাসায় গিয়েছিল। তবে পুলিশের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের কথা বলার পর তারা ফিরে আসে।
নিখোঁজের পর সুমনের পরিবার বহুবার থানায়, গোয়েন্দা কার্যালয়ে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করলেও আজ পর্যন্ত তার কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর, ১২ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকটি গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন করেন। ওইদিন সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সুমনকে নিজের বাল্যবন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, ‘মানবাধিকার লঙ্ঘনের অংশ হিসেবে জিয়াউল আহসানের নির্দেশে তাকে হত্যা করে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।’
