রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় যাত্রীবাহী একটি বাস পদ্মা নদীতে ডুবে গিয়ে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১২ জন নারী ও ২ শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছে উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো। আরও কয়েকজন নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবার বিকাল প্রায় ৫টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুনে অবস্থান করছিল। হঠাৎ বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে এগিয়ে গিয়ে পন্টুন অতিক্রম করে পদ্মা নদীতে পড়ে যায় এবং দ্রুত তলিয়ে যায়।
দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে ৪০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কুষ্টিয়া থেকে যাত্রা শুরুর সময় যাত্রী সংখ্যা কম থাকলেও পথে আরও যাত্রী ওঠেন। বাসটির বেশিরভাগ যাত্রী ঈদের ছুটি শেষে পরিবারসহ ঢাকায় ফিরছিলেন।
ডুবন্ত বাস থেকে কয়েকজন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। তাদের একজন, আব্দুল আজিজ, দৌলতদিয়া ঘাটে বসে বিলাপ করতে করতে বলেন, তার স্ত্রী ও সন্তান আব্দুর রহমান বাসের ভেতরে আটকা পড়েছেন। মোবাইল ফোনে তিনি অসহায় কণ্ঠে বলেন, “এখন আমার কী হবে, কেমনে বাঁচমু?”
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’, পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসন। প্রায় ছয় ঘণ্টা চেষ্টার পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে নদীর গভীর থেকে বাসটি টেনে তোলা শুরু হয়।
উদ্ধার কাজ চলাকালে একে একে লাশের সংখ্যা বাড়তে থাকে। রাত ২টার পর পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান অব্যাহত ছিল। বাসটি নদীর প্রায় ৭০ থেকে ৮০ ফুট গভীরে তলিয়ে গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। বৃষ্টি, বজ্রপাত ও নদীর উত্তাল ঢেউ উদ্ধার কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করে।
নিহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। উদ্ধার হওয়া লাশগুলো স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই শোকে পরিণত হয়েছে। স্বজন হারিয়ে অনেক পরিবার এখন দিশেহারা। নিখোঁজদের সন্ধানে এখনও অভিযান চলছে।
