মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার ডিমাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মীর মুহিবুর রহমানের বিরুদ্ধে সরকারি গাছ কাটার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের প্রায় ৫০ বছরের পুরনো একটি আকাশি গাছ সরকারি অনুমোদন ছাড়া কেটে নিয়েছেন। গাছটির বাজার মূল্য প্রায় ৬০-৭০ হাজার টাকা হলেও তিনি বড়লেখা সোনালী ব্যাংকে মাত্র এক হাজার টাকা জমা দিয়েছেন, যা সন্দেহজনক বলে এলাকার লোকজন দাবি করেছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ফখরুল ইসলাম বলেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ রয়েছে, কিন্তু তিনি শিক্ষক সমিতির একজন অংশের সভাপতি হওয়ায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। ইতিপূর্বে অভিভাবক ও এলাকাবাসী উপজেলা শিক্ষা অফিসার, ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্যের কাছে অভিযোগ পত্র জমা দিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি।
ইউএনও তাহমিনা আক্তার জানান, অভিযোগের পর উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও প্রকৌশলিকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম জুবায়ের আলম বলেন, গাছ কাটার বিষয়ে তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
অভিযুক্ত মীর মুহিবুর রহমান দাবি করেছেন, তিনি উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের সঙ্গে আলোচনা করে নিয়ম মেনে গাছ কাটার কাজ সম্পন্ন করেছেন এবং ১৮ মে ২০২৫ তারিখে টেজারী চালানের মাধ্যমে ব্যাংকে এক হাজার টাকা জমা দিয়েছেন।
এছাড়া প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের বরাদ্দকৃত অর্থের হিসাব না দেওয়া, নিয়মিত স্কুলে অনুপস্থিত থাকা এবং বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে।
