নিজস্ব প্রতিবেদক :
সহপাঠী মাদ্রাসা ছাত্রীকে (১৫) উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় এক মাদ্রাসা ছাত্রকে দুই দফায় মারধর এবং অপরণ করার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি ২০২৩) দুপুরে বড়লেখা উপজেলা সদরের পাখিয়ালা এলাকায় কিশোর গ্যাং এর দ্বারা হামলা ও অপহরণ চেষ্টার শিকার হন মাদ্রাসা ছাত্র আব্দুল ওয়াহাব। ওয়াহাব মুহাম্মদিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার ছাত্র।এরআগে সোমবার (১৬ জানুয়ারি ২০২৩) সহপাঠী মাদ্রাসা ছাত্রীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করতে গিয়ে মারধরের শিকার হন আব্দুল ওয়াহাব। ঘটনাটি এতোদিন স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টার কারণে প্রকাশ হয়নি। কিন্তু সমাধাণ না হওয়ায় গত বুধবার (১ মার্চ ) ঘটনাটি জানাজানি হলে বড়লেখা উপজেলা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
বড়লেখা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সুন্দরের ভাগ্নে কিশোর গ্যাং লিডার ‘রেহান গ্রুপের’ রেহান আহমদের বিরুদ্ধে হামলা ও অপহরণ চেষ্টার এ অভিযোগ ওঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৬ জানুয়ারি ২০২৩) মাদ্রাসা যাওয়ার পথে বড়লেখা পৌর শহরে কিশোর গ্যাং লিডার ‘রেহান গ্রুপের’ রেহান আহমদ তার বখাটে গ্রুপের ছেলেদের নিয়ে মাদ্রসা ছাত্রী (১৫) ও ছাত্র আব্দুল ওয়াহাবের পথরোধ করে। এসময় তারা মাদ্রাসা ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করে। তবে এতে বাধা দেন আব্দুল ওয়াহাব। ছাত্রীর যৌন নিপীড়নে বাধা দেওয়ায় রেহান তার গ্রুপের বখাটেদের নিয়ে আব্দুল ওয়াহাবের ওপর হামলা চালায়। তখন আশপাশের অনেক লোকজন ঘটনাটি দেখলেও বখাটেদের ভয়ে কোনো প্রতিবাদ করেননি। এ অবস্থায় কোনোরকমে দৌড়ে পালিয়ে প্রাণ বাঁচান ওয়াহাব। পরে নিপীড়ন ও হামলার শিকার ছাত্র-ছাত্রী বিষয়টি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষে জানান। এরপর মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি বিষয়টি রেহানোর মামা আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম সুন্দরকে জানান। কিন্তু সুন্দর তার ভাগ্নের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি।এতে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে রেহান। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি ২০২৩) দুপুরে বড়লেখা উপজেলা সদরের পাখিয়ালা এলাকায় ফের রেহানের কিশোর গ্যাং এর দ্বারা হামলা ও অপহরণ চেষ্টার শিকার হন মাদ্রাসা ছাত্র আব্দুল ওয়াহাব।তখন সেখানে অবস্থান করা রেহানের বড় ভাই কামালের হস্তক্ষেপে রক্ষা পান ওয়াহাব।এদিন মাদ্রাসা ছাত্র আব্দুল ওয়াহাব ঘটনাটি তার বাবাকে জানান। ঘটনাটি জেনে আব্দুল ওয়াহাবের বাবা আবুল কালাম আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম সুন্দরের বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। কিন্তু সুন্দর তার ভাগ্নের বিরুদ্ধে এবারও কোনো ব্যবস্থা নেননি।
এ বিষয়ে জানতে বড়লেখা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সুন্দরকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে এ সংক্রান্তে তার কোনো বক্তব্য জানা যায়নি।
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়ারদৌস হাসান বুধবার (১ মার্চ ) বিকেলে বলেন, কিশোর গ্যাং দ্বারা শিক্ষার্থীর ওপর হামলা ও অপহরণ চেষ্টার ঘটনাটি লোক মারফত শুনেছি। ঘটনাটি নিয়ে আমরা তদন্ত করে দেখব।
