“এখন এই মুহূর্তে আমার লোকজন খাজনা ওঠানো শুরু করবে। কেউ বাধা দেবেন না। বাধা দিলে ভয়াবহ পরিণতি হবে,” বলেন ওই নেতা।
গাজীপুরের শ্রীপুরের একটি বাজারে লাল গামছায় মুখমণ্ডল ঢেকে রাম দা হাতে প্রায় ৫০ জনের একটি দল নিয়ে এলেন যুবদল নেতা, ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে মাইকে ঘোষণা দিলেন খাজনা আদায়ের।
শনিবার বিকালে শ্রীপুরের তেলিহাটি ইউনিয়নের এমসি বাজারের ওই ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় চলার মধ্যে ওই যুবদল নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
জাহাঙ্গীর আলম পিন্টু (৩৫) নামে ওই যুবদল নেতা শ্রীপুর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও তেলিহাটি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব। তিনি তেলিহাটির মুলাইদ গ্রামের নূরু বেপারীর ছেলে।
এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান মোল্লা বলেন, “এই ধরনের কোনো বক্তব্য দল কোনভাবেই সমর্থন করে না। এটি দলের জন্য খুবই সাংঘর্ষিক। ইতোমধ্যে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহদপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভুইঁয়ার স্বাক্ষরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।”
এমসি বাজার ব্যবসায়ীরা ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, হঠাৎ দলবল নিয়ে আসেন জাহাঙ্গীর। সবার মুখ ও মাথা ঢাকা ছিল লাল গামছায়। হাতে ছিল রাম দা। মাইকে প্রকাশ্যে চাঁদা আদায়ের বক্তব্য দেন তিনি। এরপর তার লোকজন দোকানগুলো থেকে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয়।
এক দোকানি বলেন, “অনেকেই দোকান ফেলে পালিয়ে যায়। ভয়ে অনেকেই টাকা পয়সা দিয়ে জান বাঁচায়।”
সেখানে বলতে শোনা যায়, “প্রিয় দোকানদার ভাইয়ের আমি জেল থেকে এসে ঘোষণা দিয়েছিলাম যে, এমসি বাজারটাকে আমি আমার নিজস্ব লোক ও আপনাদের সহযোগিতার সুন্দরভাবে পরিচালনা করব। কিন্তু কিছু মানুষের জন্য আমি পারি নাই। আজকে (শনিবার) আমি লোকজন নিয়ে বাজারে এসেছি। আপনাদের সঙ্গে সম্পর্ক করতে এবং সহযোগিতা করতে।
“আজকের পর থেকে আমি জাহাঙ্গীর যতদিন পর্যন্ত বেঁচে থাকি ততদিন পর্যন্ত আমার নিয়ন্ত্রণে চলবে এমসি বাজার। আপনাদেরকে দয়া করে বলছি, এখন এই মুহূর্তে আমার লোকজন খাজনা ওঠানো শুরু করবে। কেউ বাধা দেবেন না। বাধা দিলে ভয়াবহ পরিণতি হবে। অনেক খেসারত দিতে হবে।”
