মৌলভীবাজার জেলার মনু নদীর তীর রক্ষা প্রকল্পের তিনটি পয়েন্টে চলমান কাজ ভারতীয় আপত্তির কারণে স্থগিত রয়েছে। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা এ বিষয়ে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে একটি প্রতিবেদন দিয়েছেন।

বাংলাদেশের পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় বাঁধ নির্মাণের কারণে ভারতের কৈলাশহর ডুবে যাওয়ার আশঙ্কার কথা বলা হলেও এর যৌক্তিক কোনো ভিত্তি নেই। এ বিষয়ে বাংলাদেশের যৌথ নদী কমিশন ভারতীয় কমিশনের কাছে অনুমতি চেয়ে চিঠি পাঠালেও এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

মনু নদী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে উৎপন্ন হয়ে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া, রাজনগর ও সদর উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুশিয়ারা নদীতে মিশেছে। প্রতি বছর বর্ষাকালে নদীর ভাঙনে এসব এলাকায় বন্যার সৃষ্টি হয়, যা ২০১৮ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়েছিল।

২০২০ সালের একনেক সভায় ‘মনু নদীর ভাঙন থেকে তিনটি উপজেলা রক্ষা’ শীর্ষক একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়। এর আওতায় সীমান্তবর্তী ১৪০০ মিটার নদী তীর সংরক্ষণমূলক কাজের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব কাজের ফলে তাদের পাঁচটি স্থান ঝুঁকিতে পড়তে পারে, যার কারণে উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যৌথ পরিদর্শনের পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু ভারতের অনুমতি না থাকায় সেই পরিদর্শন সম্ভব হয়নি।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক নদী আইন অনুযায়ী ভারতীয় অনুমতির প্রয়োজন। অনুমতি পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দ্রুত অনুমতির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে এ বছরের শুষ্ক মৌসুমে কাজ শেষ করা সম্ভব হয় এবং আগামী বর্ষার আগে নদী তীর সংরক্ষণ নিশ্চিত করা যায়।

By সুপ্রভাত সিলেট

সুপ্রভাত সিলেট (Suprobath Sylhet) একটি দৈনিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। সিলেটসহ সারাদেশের সর্বশেষ সংবাদ, স্থানীয় ঘটনা, জাতীয় খবর, রাজনীতি, শিক্ষা, অর্থনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন ও প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদ পাঠকদের কাছে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে পৌঁছে দেওয়াই এই সংবাদমাধ্যমের মূল লক্ষ্য। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা, সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকদের তথ্যসমৃদ্ধ রাখার প্রত্যয়ে কাজ করে সুপ্রভাত সিলেট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *