ভারতীয় ব্যবসায়ীরা চুনাপাথর ও বোল্ডার পাথরের দাম না বাড়ালেও শুল্ক বাড়িয়ে দিয়েছে সিলেটের কাস্টমস বিভাগ। জাতীয় রাজস্ব বিভাগের নির্দেশে অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু (কাস্টমস নির্ধারিত আমদানীকৃত পণ্যের ক্রয়মূল্য) বাড়িয়ে দেওয়া হয়। ফলে প্রতি টনে এখন থেকে ২ ডলার বাড়তি দিতে হবে আমদানিকারকদের। তবে সরকারের এ সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ ব্যবসায়ীরা।
শুল্ক বৃদ্ধির প্রতিবাদে সিলেটের আমদানিকারকরা গত বুধবার থেকে বিভাগের ১৩টি শুল্ক স্টেশন দিয়ে চুনাপাথর ও বোল্ডার পাথর আমদানি বন্ধ রেখেছেন। এতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। গতকাল শুক্রবার এক সভা থেকে আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, সরকার বাড়তি শুল্ক প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা আমদানি বন্ধ রাখবেন। সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দরের উপপরিচালক মাহফুজুল ইসলাম ভূঁইয়া বন্দর দিয়ে আমদানি বন্ধ থাকার বিষয়টি গতকাল নিশ্চিত করেছেন।
সিলেট বিভাগে ১৩টি শুল্ক স্টেশন দিয়ে পাথর, চুনাপাথর, কয়লাসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি-রপ্তানি করা হয়। এর মধ্যে গোয়াইনঘাটের তামাবিল, কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ, সুনামগঞ্জের বাগলি, বড়ছড়া ও চারাগাঁও; ছাতকের ইছামতী ও চেলা স্টেশন দিয়ে চুনাপাথর ও পাথর আমদানি হয়ে থাকে। গত সোমবার ব্যবসায়ীদের শুল্ক বৃদ্ধির বিষয়টি অবগত করে কাস্টমস বিভাগ।
পরদিন মঙ্গলবার সভা করে আমদানিকারকরা বুধবার থেকে আমদানি বন্ধের ঘোষণা দেন। ফলে তিন দিন ধরে শুল্ক স্টেশন দিয়ে কোনো পাথর আমদানি হয়নি।
জানতে চাইলে ছাতক লাইমস্টোন ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড সাপ্লায়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সেলিম চৌধুরী সমকালকে জানান, নানা কারণে ব্যবসার অবস্থা খারাপ। এর মধ্যে টনপ্রতি ২ ডলার করে শুল্ক বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। চুনাপাথরের ডিউটি (ইম্পোর্ট অ্যাসেসমেন্ট রেট) সাড়ে ১১ ডলার থেকে সাড়ে ১৩ ডলার এবং বড় পাথর তথা বোল্ডারের রেট ১১ ডলার থেকে ১৩ ডলার করা হয়েছে। বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমদানি বন্ধ থাকবে বলে জানান তিনি।
সিলেট কাস্টমস বিভাগের উপকমিশনার সোলাইমান হোসেন বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে আমদানি বন্ধ করা হয়নি, শুল্কও আমরা বাড়াইনি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ, ডলারের দাম বেড়েছে। আগের ৮৪ টাকার জায়গায় এখন ডলারের দাম ১০৯ টাকা। ডলারের মূল্যস্ফীতিই শুল্ক বৃদ্ধির কারণ। তবে আমদানিকরা চাইলে এ নিয়ে আলোচনা করতে পারেন।
