মানুষের হয়রানি কমাবার লক্ষে ভূমিমন্ত্রনালয় ভূমি সেবাকে ডিজিটাল করেছে। ভূমি উন্নয়ন কর, ই-পর্চা ইত্যাদি সেবায় মানুষের কষ্ট কিছুটা লাগব হলেও ই-নামজারিতে ঘুষ ছাড়া ফাইল সামনের দিকে হাটে না।
ই-নামজারি করতে একজন গ্রাহককে বেশ কয়েকটি ধাপ পাড়ি দিতে হয়। অনলাইনে আবেদন করার ফাইল প্রথমে যায় তহসিল অফিসে সেখানে সবকিছু ঠিক থাকার পরও নির্দিষ্ট পরিমান টাকা না দিলে রির্পোট পাঠনো হয় না। রিপোর্ট আসার পর শুনানির জন্য এসিল্যান্ড অফিসে ডাকা হয়। হাজিরা স্বাক্ষর দিতে এবং কানংগোর রির্পোটের জন্য দিতে হয় আবারও টাকা। এই সব অভিযোগ ভুক্তভোগিদের। আর এমন চিত্র বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্র।
অথচ সরকারী হিসাবে নামজারি করতে সরকার নির্ধারিত খরচ ১ হাজার ১৭০ টাকা হলেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূমি কার্যালয়গুলোর কর্মকর্তারা দলিলভেদে নেন ৫ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত। অথচ নামজারির আবেদনের জন্য কোর্ট ফি ২০ টাকা, নোটিশ জারি ফি ৫০ টাকা, রেকর্ড সংশোধন বা হালকরণ ফি ১ হাজার টাকা ও প্রতি কপি মিউটেশন খতিয়ান সরবরাহ বাবদ ১০০ টাকার বাইরে আর কোনো খরচ নেই। চাহিদা অনুযায়ী ঘুষ না দিলে ভূমি কার্যালয় থেকে জমির নামজারি করতে পারেন না নাগরিকরা।
গত ১৮ সেপ্টম্বর দৈনিক কালবেলায় প্রকাশিত এক রির্পোটে জানা যায়,
সরকার নির্ধারিত ফির প্রায় পাঁচগুণ টাকা ঘুষ হিসেবে নেওয়ার হার নির্ধারণ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক সহকারী কমিশনারের (ভূমি) বিরুদ্ধে। পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ের ভূমি সহকারী কর্মকর্তাদের জমির নামজারিতে ৬ হাজার টাকা করে নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন মাসুদুর রহমান নামে ওই কর্মকর্তা। তিনি নাজিরপুরের এসিল্যান্ড।
অন্য দিকে দেশের ভূমি অফিসগুলোতে দালালদের দৌরাত্ম্য নতুন কিছু নয়। ‘যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে’ এসব দালাল চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে অনলাইনভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও। ফেসবুকে ভূমি সেবা সহায়তা এবং পরামর্শভিত্তিক বিভিন্ন গ্রুপে ই-নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর, ই-পর্চা ইত্যাদি সেবার নামে এসব দালাল মানুষের কাছ থেকে সরকারি ফির চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
যার ফলে সরকারের ডিজিটাল সেবা নাগরিকরা যেভাবে পাবার কথা সেভাবে পাচ্ছে না।
যা করা দরকার: অভিজ্ঞমহল বলছেন, যেহেতু দাগ, খতিয়ান, জমিক্রয়ের রেজিষ্টার্ড দলিল, নকশা সবকিছু সরকারের সার্ভারে রয়েছে তাই একজন আবেদনকারীকে শুনানির জন্য ডাকার কোন প্রয়োজন নেই। এসি ল্যান্ড নিজ দায়িত্বে তার অধিন্যাস্ত সকল অফিস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে আবেদনকারীর আবেদনের সিদ্ধান্ত দিতে পারেন। এক্ষেত্রে সবকিছু সঠিক থাকলে অনুমোদন দেবেন আর অনুমোদন না দিলে তার কারণ আবেদনকারীকে জানাবেন।
কোন বিষয়ে অনলাইনে আবেদন করার পর বিভিন্ন অফিসে স্বশরীরে বারবার উপস্থিত হবার কোন নিয়ম উন্নতবিশ্বে নেই। বাংলাদেশ ২০৪১ সালে একটি উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। সে লক্ষে আমাদের সকল ক্ষেত্রে উন্নতি করতে হবে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে।
